Add Recipe

বাণিজ্যিক পণ্য বনাম হোমমেড পণ্য

আচ্ছা বলুন তো কোন মা নিতান্তই নিরুপায় না হলে কি নিজের সন্তানের লালন-পালন এর ভার অন্যের উপর দেয় ? যারা কর্মজীবী মা তারা অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই মেড বা  শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের রেখে সন্তান লালন পালন করে থাকেন। কিন্তু মনে সব সময় অশান্তি আর দুশ্চিন্তা লেগেই থাকে। বাণিজ্যিকভাবে যেসব পণ্য তৈরি করা হয় তাতে কেবল ব্যাবসায়িক সুবিধার কথা চিন্তা করা হয় ।দেখতে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করার জন্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক রং , ফ্লেভার ইত্যাদি ব্যবহার করে ।পণ্য তৈরিতে যেসব উপাদান  বা উপকরণ  ব্যবহার করা হয় তার গুণগতমান নিয়েও রয়েছে নানা মতভেদ। একজন শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারককে অবশ্যই  WHO এবং UNICEF এর গাইডলাইন মেনে পন্য প্রস্তুত করা উচিত। কিন্তু আফসোস কে শোনে কার কথা ।একটা উদাহরন দিচ্ছি যাতে সহজে বুঝতে পারেন বাণিজ্যিক শিশু খাদ্যে ৬ মাসের পর থেকেই স্কিমড মিল্ক ব্যবহার করা হয় যা উচ্চ ক্যালসিয়াম ও ক্যালরি বহুল কিন্তু সামান্য আয়রনযুক্ত। WHO ও আমেরিকান শিশু খাদ্য প্যানেলের মতে এক বছর বয়সের নিচে শিশুর খাদ্যে স্কিমড মিল্ক ব্যবহার নিষিদ্ধ।এটি এক বছরের কম বয়সী শিশুর স্বাস্থ্যের উপর  ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে ।

একজন মা যেমন তার শিশুর সব ব্যাপারে যত্নশীল ও সেরাটা দিতে চায়। তেমনি একজন হোমমেড খাদ্য প্রস্তুতকারক তার আন্তরিকতা,অভিজ্ঞতা ও সমপ্ত ভালোবাসা ঢেলে এসব খাদ্য তৈরি করে থাকেন। যেন ব্যস্ততা বা সঠিক তথ্য জ্ঞানের অভাবে যেসব মায়েরা নিজের ঘরে তৈরি করে খাওয়াতে পারছেন না তাদের মনে সংশয় আর কষ্টটুকু দূর করা যায়।

আমদের নতুন কিছুর ব্যাপারে অনেক ক্ষেত্রেই যেন একটা নাক শিটকানো ভাব। আসলে শুরুতে তো সবাই নতুন থাকে। এই সুন্দর পৃথিবীতে আপনি আমি আমরা সবাই তো একদিন নতুন ছিলাম তাই বলে কি আমরা এখন আর নতুন ? নিশ্চয়ই না। আমরা আমাদের জ্ঞান দক্ষতা আর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সবাই যার যার একটা অবস্থান তৈরি করে নিয়েছি। এবার আসা যাক নতুন উদ্যোক্তাদের কথায় -তারা সব সময় পণ্যের মান সর্বোচ্চ বজায় রাখার চেষ্টা করেন ।কারণ তারা জানে যে তার পণ্য ভালো না হলে ক্রেতারা আর বারবার ফিরে আসবেনা। আর HealthGear এমন কিছু উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে তৈরি যাদের প্রতিজ্ঞা হলো পণ্যের গুণগত মানের ব্যাপারে “জিরো টলারেন্স” অর্থাৎ আমরা সবার আগে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করি। পৃথিবীতে যত খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান আছে তাদের অনেকেই এই প্রযুক্তি ও যন্ত্রনির্ভর যুগেও তাদের পণ্য ম্যানুয়ালি তৈরি করে থাকে সর্বোচ্চ গুণগত মান বজায় রাখার জন্য। এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেমন “রোলেক্স ওয়াচ” এক নামে সবাই চিনে। কিন্তু জানেন কি তাদের একটি ঘড়ি তৈরি করতে এক বছর সময় লাগে। কারণ ঘড়ি তৈরির কাজটা তারা হাতে করেন, কোন স্বয়ংক্রিয় মেশিন ব্যবহার করেন না। যাদের একটা সবচেয়ে কম দামি ঘড়ির মূল্য ও ৫০০০ ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৪ লক্ষ।তারা পণ্যের মানে কোন ছাড় দেয় না বলেই পৃথিবীব্যাপী সুনামের সহিত একচেটিয়াভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছে ।

ইউনিসেফ ২০১৩ সালের এক সমীক্ষার ফলাফলে জানিয়েছেন সামাজিক ও সম্পদের মর্যাদার পাশাপাশি মায়েদের শিক্ষাও শিশুর পুষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই একজন সচেতন মা হিসেবে আপনার সন্তানের জন্য সঠিক পুষ্টিকর খাদ্য নির্বাচনে আপনাকে হতে হবে অনুসন্ধানী ও যৌক্তিক ।মনে রাখবেন আপনার একটি সঠিক সিদ্ধান্ত পাল্টে দিতে পারে আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের ভিত।

You May Also Like

Leave a Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

X
Have no product in the cart!
0