Add Recipe

প্রকৃতিতেই আছে রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়

ভেষজ উদ্ভিদ প্রকৃতির দান। মানব রোগ-ব্যাধির চিকিৎসায় সেই প্রাচীনকাল থেকেই এই ভেষজ উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং এখন ও আছে।প্রকৃতিতে যেসব ভেষজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য উপাদান পাওয়া যায় এবং যাদের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, অ্যান্টি-ভাইরাল ক্ষমতা আছে।যাই হোক, ভেষজ ও অন্যান্য উপাদান এবং তার বিচিত্র ঔষধি গুণাবলি নিয়ে আমরা আজকে কিছু কথা বলার চেষ্টা করবো।

কালোজিরা

জীবাণুর বিরুদ্ধে কালোজিরা একটি হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে।এই বীজথেকে প্রাপ্ত তেল শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে পারে।যেমন গামাইন্টারফেরন, টিসেল এর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ম্যাক্রোফাজের কার্যকারিতা ও সংখ্যা কমানো।গবেষণায় দেখাগেছে, ফুসফুস জটিলতা–সংক্রান্ত এবং অন্যান্য শ্বাসজনিত সমস্যায় এর বীজ ও তেল দারুণ কাজ করে।

তুলসী

এটি ও অনেক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।পরীক্ষায় দেখা গেছে, এর ইথানলিক নির্যাস শরীরের আইএল-৬ নিঃসরণ এবং এনএফ-কেবি প্রকাশ বন্ধ করে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ক্ষমতা দেখায়, ফলে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এটি কার্যকার।

আদা

আদা দক্ষিণ এশিয়ার একটি মসলা এবং এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-ক্যানসার, অ্যান্টি-ভাইরাল কার্যকারিতা রয়েছে।এটি শ্বাসযন্ত্রের প্রসারণ ঘটাতে সংক্ষম, যা ব্রোঙ্কোডিলেটিং নামে পরিচিত।

লবঙ্গ

শ্বাস কষ্ট জনিত জটিলতায় লবঙ্গ কাজ করতে পারে।গবেষণায় লবঙ্গের কুঁড়ি বা পাতা থেকে সংগৃহীত প্রয়োজনীয় তেল গুলোতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, অ্যান্টি-ভাইরাল কার্যক্রম পাওয়া গিয়েছে।এ থেকে প্রাপ্তই উজেনলট্র্যাকিয়াল মসৃণ পেশিতে ভালো প্রভাব ফেলে এবং ব্রোঙ্কোডিলেটিং এবং অ্যান্টি-এজম্যাটিক হতে পারে।এটি ও মার্কিন খাদ্য ও ঔষধপ্রশাসন (এফডিএ) দ্বারা স্বীকৃত।

নিম

বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে ঐতিহ্যবাহী ওষুধ হিসেবে নিম খুব পরিচিত।এটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে ও কাজ করতে পারে।ভাইরাল জ্বরের উন্নতি করতে পারে নিমপাতার রস।

ভিটামিন-ডি(মাশরুম) 

ভিটামিন-ডি ভাইরাল সংক্রমণ রোধ করতে পারে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে।সাধারণত, ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইন দেখা যায়।ভিটামিন-ডি এই প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইন যেমন এনএফ-কেবি ও গামাইন্টারফেরনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।সূর্যের আলো এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস।এছাড়া দৈনিক হাফ-চামচ কডলিভার তেল অথবা ১০০গ্রাম রুই মাছ খাওয়া যেতে পারে।

ভিটামিন-সি

ভিটামিন–সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা শরীরের শ্বাসযন্ত্র ও সিস্টেমিক সংক্রমণকে রোধক রতে পারে।এটি ও ভিটামিন-ডির মতো প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইনের মাত্রা হ্রাস করতে পারে, বিশেষ করে এটি ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের পরিষ্কার, শরীরের নিউট্রোফিলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে ফুসফুসের ক্ষতি উপশম করতে পারে।এজন্য, খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন ভিটামিন-সি রাখা দরকার।

জিংক

জিংক মানব দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র, প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের জন্য দৈনিক১১মিলিগ্রাম এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৮মিলিগ্রাম জিংক সুপারিশ করে।জিংকের উৎস হলো গরুর মাংস, মুরগি, দই, মটরশুঁটি, মটর এবং কাজুবাদাম।

কিসমিস

কিসমিসে আছে ফেনল ফাইটো নিউট্রিয়েন্টস, যার জীবাণুনাশক শক্তি, অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল এবংঅ্যান্টি ওক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য। এটি ব্যাক্টেরিয়া এবং ভাইরাল ইনফেকশানের জন্য হওয়া জ্বর কমাতে সাহায্য করে।

এই ভেষজ ও খাদ্য গুলো রোগের উপশম ও সামগ্রিক উন্নতিতে গুরুত্ব পূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।এ অবস্থায় এই সহজ লভ্য ও বৈজ্ঞানিক বিকল্প চিকিৎসাগুলো আমাদের রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কার্যকরী হবে।

ভেষজ উপাদানের সঠিক মাত্রার ব্যবহারের উপর নির্ভর করে আপনি কতটুকু উপকার পাবেন। তাছাড়া কিছু ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে নানা রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ও সম্ভাবনা থাকে। তাই স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের সহায়তা নিন।

সূত্রঃ মার্কিন খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিএ),

You May Also Like

Leave a Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

X
Have no product in the cart!
0