Add Recipe

খেজুরের পুষ্টিমূল্য ও উপকারিতা

খেজুর অত্যন্ত সুস্বাদু একটি ফল। খেজুর শক্তির একটি ভালো উৎস এবং খেজুর খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি। যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।চারটি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মি.লি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২ দশমিক ৮ গ্রাম ফাইবার এবং খেজুরের রয়েছে আরও অনেক পুষ্টি উপাদান।
অসাধারণ পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খেজুর আমাদের শারীরিক নানা সমস্যা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। তাহলে আসুন জেনে নেই খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে-
দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে
খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। খেজুরের মধ্যে রয়েছে জিয়াজেন্থিন ও লিউটিন নামক উপাদান যা ম্যাকুলার ও রেটিনার স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে রাতকানা রোগ প্রতিরোধেও খেজুর সহায়ক। তাই চোখের সমস্যায় ভোগা রোগীরা সচ্ছন্দে খেতে পারেন খেজুর।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা আমাদের পরিপাক ক্রিয়া দ্রুত হতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।
শক্তি বৃদ্ধি করে
খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকে বলে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি পেতে সাহায্য করে। তাই শরীর দুর্বল লাগলে শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য কয়েকটি খেজুর খেয়ে নিতে পারেন।
সংক্রমন রোধ করে
খেজুরে প্রচুর মাত্রায় প্রাকৃতির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা একাধিক রোগকে দূরে রাখার পাশাপাশি শরীরের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যকৃতের সংক্রমন, গলা ব্যথা, বিভিন্ন ধরনের জ্বর, সর্দি, এবং ঠান্ডায় খেজুর উপকরী। খেজুর অ্যালকোহল জনিত বিষক্রিয়ায় বেশ উপকারী। ভেজানো খেজুর খেলে বিষক্রিয়ায় দ্রুত কাজ করে।
আয়রনের ভালো উৎস
খেজুর আয়রন সমৃদ্ধ ফল যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, তাদের খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখা প্রয়োজন। এটি শরীরের প্রতিদিনের আয়রনের চাহিদার ১১ ভাগ পূরণ করে। আয়রন রক্তস্বল্পতার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। তাই খেজুর অ্যানিমিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে।
উচ্চ রক্তচাপ কমায়
খেঁজুরের মধ্যে রয়েছে অধিক পরিমাণ পটাশিয়াম এবং কম পরিমাণ সোডিয়াম। যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে উপকারী। এটি মস্তিষ্কের স্নায়বিক কার্যক্রম ভালো রাখে। অধিক পরিমাণ পটাশিয়াম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
হাড়কে মজবুত রাখে
খেজুরে সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এবং ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। হাড় শক্ত রাখে এবং হাড়ের ক্ষয়ও রোধ করে। এছাড়াও নিয়মিত খেজুরে খেলে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।
ওজন বাড়ায়
যাদের ওজন মাত্রাতিরিক্ত হারে কমে যেতে শুরু করেছে, তারা খেজুর খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। কারণ এই ফলটিতে উপস্থিত ক্যালরি শরীরে ভাঙন রোধ করে ওজন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
তাপ শক্তি উৎপাদন করে
খেজুর ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফাইবার, ভিটামিন ও ম্যাগনেসিয়ামের চমৎকার উৎস। এটি শরীরকে উষ্ণ থাকতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন মাত্র তিন থেকে চারটি খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করুন ,আর রোগমুক্ত থাকুন ।

You May Also Like

Leave a Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

X
Have no product in the cart!
0